বৃহস্পতিবার

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
spot_img

শরৎ সাজে কাশফুলে স্নিগ্ধতার মহীমত্বে

শরৎ মানেই শুভ্র, শরৎ মানেই সাদা মেঘের ভেলা, শরৎ মানেই কাশবন, শিউলি ফুলের মেলা। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত এই তিনের মিশ্রণ রয়েছে শরতে। শরৎকালের এই সময়ে রং, রূপ ও বৈচিত্র্যে মৌলিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এর প্রভাব মনে যেমন পড়ে, তেমনি পড়ে পোশাকেও। তবে সবকিছু হওয়া চাই শান্ত আর সাবলীল। ফ্যাশনসচেতন মানুষের কাছে ঋতুভেদে পোশাকে আসে ভিন্নতা।

শরৎ ঋতুতে পোশাকের রং আর নকশায় থাকে বিভিন্ন রঙের খেলা। পোশাকে থাকে বৈচিত্র্যের প্রয়াস।

শরতের প্রকৃতি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত ক্যানভাস। প্রকৃতির এই ক্যানভাসের অংশ হতে পোশাকের রং হওয়া চাই মানানসই।

শরতের আছে নিজস্ব বর্ণ আর গন্ধ। দেশীয় পোশাক নকশাকারেরা সাধারণত শরতের জন্য বেছে নেন চারটি রং— সাদা, নীল, সবুজ আর সোনালি। নীল আকাশ, সাদা কাশফুল, সোনালি সূর্য আর সবুজ ফসল। শরত এলেই দল বেঁধে কাশবনে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই সময়ে পোশাকে যদি থাকে শরতের আবহ, তাহলে কেমন হয়? তাই তো ফ্যাশন হাউসগুলো নীল-সাদার সমন্বয়ে তৈরি করে রকমফের পোশাক। শুধু শাড়ি বা কামিজে নয়, শরতের অন্যান্য পোশাকেও প্রাধান্য পায় শুভ্র সাদা আর আকাশের নীলাভ রং।

গাঢ় নীল, হালকা নীল, আসমানি নীল, ময়ূরকণ্ঠী নীল, রয়েল ব্লু, নেভি ব্লু আরও কত শত রং ফুটিয়ে তুলেছে পোশাকের জমিনে। সঙ্গে সাদা কিংবা অফ হোয়াইটের মিশেল ও নকশার বৈচিত্র্য—এভাবেই অনেক ফ্যাশন হাউস সাজিয়েছে শরৎ–সংগ্রহ। এর বাইরেও পোশাকে ব্যবহার হয়েছে ফিরোজা, ছাই, সোনালি, খয়েরি, সবুজ, হলুদ, কমলা,বেগুনি, গোলাপি রঙের মিশেলে সব নান্দনিক ডিজাইন। আবার শরৎ মানেই কিন্তু শারদীয় আমেজের একটা ব্যাপার থাকে। চারপাশে চলছে শারদ উৎসবের আয়োজন। আর পূজা মানেই লালের প্রাধান্য তো থাকেই।

ভাদ্র-আশ্বিন এই দুই মাস মিলিয়ে শরৎকাল। তবে আশ্বিনের তুলনায় ভাদ্রে গরমের মাত্রা একটু বেশি হলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকে। শরতে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির খেলায় আমাদের পোশাকও হতে হবে বৈচিত্র্যময়। এ সময় সুতি, ভয়েল, অ্যান্ডি কটনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কোটা ও ধুতি কাপড়ও রয়েছে তালিকায়। সুতি, লিনেন আর তাঁতে বোনা ফেব্রিকে অনায়াসেই আরাম খুঁজে পাবেন এই সময়ে। মসৃণ ফেব্রিক এ সময়ে শরীরে দেবে স্বস্তি।

ফুলেল নকশা এ সময়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে পোশাককে। ফুল নিজেই এক সৌন্দর্য, আর তা যখন রংতুলি অথবা সুইসুতার মাধ্যমে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে, তাতে তৈরি হয় নান্দনিকতা। বেশির ভাগ শরতের পোশাকের নকশায় ঠাঁই পায় ফুলেল ও জ্যামিতিক মোটিফ। ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাইডাই, হালকা এমব্রয়ডারি থাকতে পারে পোশাকগুলোয়। প্রধানত সুতি ও অ্যান্ডি কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারি করা হয়। আরও করা যেতে পারে ব্লক, কারচুপি, ভরাট অ্যাপলিকসহ হরেকরকম হাতের কাজ। এ ছাড়াও জ্যামিতিক নকশার সঠিক ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।

spot_img

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img