মঙ্গলবার

১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
spot_img

কঠোর পরিশ্রমে মোটেও হাল ছাড়িনি

লিওনেল মেসি। কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন ফুটবলার। বিখ্যাত এই ফুটবলারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক কথা তুলে এনেছেন মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।

তখন আমার বয়স তিন কি চার বছর। বাড়ির পাশেই খেলে বেড়াতাম– মনে পড়ে। একেবারেই অল্পবয়সে, বল আমার পায়ে এলে কী কী করতাম– সব ছবির মতো মনে আছে। আমার খেলার স্টাইল তখন যেমন ছিল, এখনও তাই। কেউ আমাকে কিক মারতে ছুটে আসছে কিনা–সে নিয়ে একদমই মাথা ঘামাতাম না।

নতুন পরিবেশ ও দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য,

বার্সেলোনায় কাটানো শুরুর দিনগুলো আমার জন্য ছিল আনন্দ ও বেদনার মিশ্র অনুভূতিতে ভরা। বার্সেলোনায় থাকতে পেরে, নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পেরে আমি ছিলাম রোমাঞ্চিত। অন্যদিকে, নিজের চেনা পরিবেশ, নিজের চেনা মানুষগুলো থেকে এত বেশি দূরে এসে থাকা ছিল খুব বেদনার। নতুন টিমমেট, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে জীবনটা নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল আমাকে। ইনজুরি ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে, এখানে এসে খেলা শুরু করতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তবে নিজের উচ্চতা নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি। কেননা, ছোটবেলা থেকেই তো স্কুলের টিমে আমিই ছিলাম সবচেয়ে ছোট আকৃতির।

মোটেও হাল ছেড়ে দিইনি,

১৩-১৪ বছর বয়সে, বার্সেলোনার ইয়ুথ টিমে প্রথম প্রথম নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতাম না আমি। খারাপ একটু লাগত; তাই বলে মোটেও হাল ছেড়ে দিইনি। বরং নিজের স্বপ্নকে আরও বেশি ঝালাই করে নিতে, মন দিয়ে করে গিয়েছি অনুশীলন ও পরিশ্রম। আমার জন্য সৌভাগ্যের বারতা নিয়েই যেন টিমটির কোচের দায়িত্ব নিলেন টিটো ভিলানোভা। এরপর আমি বেশি বেশি সুযোগ পেতে থাকলাম; আর হয়ে ওঠলাম ইয়ুথ টিমের একজন নিয়মিত সদস্য। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তখনকার স্মৃতি মনে না থাকলেও, নিশ্চিত জানি, টিটো যখন বার্সেলোনা মূল টিমের কোচ হয়ে এলেন, তার অধীনে এই সিনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে টের পেলাম, তিনি সেই আগের মতোই আছেন। যেন আমরা ইয়ুথ টিমের সেই বাচ্চা ক্যাডেটরা– যাদের পরম মমতায় তিনি গড়ে তুলতে অভ্যস্ত। ভাগ্য খারাপ, টিটোকে অকালে হারাতে হলো আমাদের!

বলের সঙ্গে জন্মগত সখ্য!

বার্সেলোনা ইয়ুথ সিস্টেমে অনেক কিছু শিখেছি আমি, অনেক ধরনের প্র্যাকটিসই করেছি, তবে নিজের খেলার স্টাইলে পরিবর্তন ঘটাইনি এতটুকু। কখনও কোনো বিশেষ স্টাইল জোর করে রপ্ত করতে যাইনি। বরং থেকে গিয়েছি নিজের মতো। অনেকেই ভাবে, বলের সঙ্গে আমার হয়তো জন্মগত সখ্য; বল যেন স্বয়ং এগিয়ে আসে আমাকে সাহায্য করতে! আমি বলি, না; মোটেও তা নয়। বরং নিয়মিত প্র্যাকটিস করে এই সখ্য গড়ে তুলেছি আমি। এ জন্য সেই মানুষগুলোর কাছে আমি ঋণী, যারা আমাকে নিরন্তর শিখিয়েছেন ও শেখাচ্ছেন। এমনিতে আমি ভীষণ আত্মসমালোচক একজন মানুষ। কবে ও কেন ভালো খেলেছি এবং কবে ও কেন খারাপ খেলেছি– সব আমার জানা। এ কথা অন্য কারও আমাকে বলে দেওয়ার কোনো দরকার নেই। আমার স্বভাব কেবল প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে অবিরাম ধেয়ে যাওয়াই। স্বীকার করছি, এটি হয়তো আমার সহজাত প্রবণতা। নিজেকে কারও সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে আমার ভালো লাগে না। আমি শুধু আমার কাজটিই করে যেতে চাই। আর জানি, নিজের স্বপ্নকে ছুঁতে চাইলে অবিরাম লড়ে যেতে হবে; দিতে হবে নানা বিসর্জন, করতে হবে কঠোর পরিশ্রম।

সমকাল থেকে সংগৃহীত।

spot_img

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img