বৃহস্পতিবার

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
spot_img

সেই মার্কিন সেনার নামে ফিলিস্তিনে সড়ক

তিনি ফিলিস্তিনি নন। বাড়িও ফিলিস্তিন থেকে যোজন যোজন দূরে। তারপরও ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ হৃদয় ছুঁয়েছিল তার। প্রতিবাদ জানাতে শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সদস্য অ্যারন বুশনেল। ২৫ বছরের টগবগে সেই তরুণের নামে ফিলিস্তিনের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

সড়কটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে। গতকাল রোববার সড়কের নতুন নামফলক উন্মোচন করেন জেরিকোর মেয়র আবদুল করিম সিদর। সেখানে তখন মানুষের জমায়েত। সবার উদ্দেশে মেয়র বলছিলেন, ‘আমরা তাকে চিনতাম না। তিনিও আমাদের চিনতেন না। আমাদের মধ্যে কোনো সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক বন্ধন ছিল না। তার সঙ্গে আমাদের যে বিষয়টি মিলে যায়, তা হলোÍস্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আর (গাজায়) ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।’

অ্যারন বুশনেল গাজায় হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে চরম পথটাই বেছে নিয়েছিলেন। দিনটি ছিল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। সামরিক বাহিনীর পোশাকে তিনি হাজির হন ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছিলেন। সেখানেই ঘোষণা দেন, ‘গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে চান না’। এরপর নিজের শরীরে আগুন দেন। এ সময়ও তাঁর আকুল আবেদন ছিল একটাইÑ ‘ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই।’ এর পরপরই বুশনেলকে উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে বাঁচানো যায়নি।

ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বুশনেল যে আত্মত্যাগ করেছেন, তাকে সংহতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে দেখছেন জেরিকোর বাসিন্দারা। এমনই একজন শহরটির কাউন্সিল সদস্য আমানি রায়ান। গাজায় বেড়ে ওঠা এই মানুষটি ১৯ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য পশ্চিম তীরে এসেছিলেন। আমানি বলেন, ‘তিনি (বুশনেল) নিজের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটিই উৎসর্গ করে দিয়েছেন। গাজার শিশুদের জন্য এই মানুষটি নিজের সব সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করেছেন।’

জেরিকোর বাসিন্দা আমানি রায়ান বলছিলেন, ‘এখানে অ্যারন বুশনেল আর মাহমুদ দারবিশ একসঙ্গে মিলিত হয়েছেন। দুজনই ফিলিস্তিনের গল্পের পাতায় শক্তিশালী দুটি নাম।’ জেরিকোর অনেকের মতোই আমানি রায়ানও চান, বুশনেলের পরিবার যেন শহরটি ভ্রমণে আসে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চাই। ধন্যবাদ দিতে চাই তাঁকে (বুশনেল) লালনপালন করার জন্য, তাঁকে এমন নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত করার জন্য।’

spot_img

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img