বৃহস্পতিবার

২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
spot_img

বইমেলায় এবার ‘ভালো’ বিক্রি

বইমেলার দুয়ার খুলেছে গত বৃহস্পতিবার। সেই হিসাবে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পাঁচদিন পার করলো প্রাণের এ মেলা। শুরুর পর দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা তিনদিন লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল বইমেলা। রবি-সোমবার কর্মদিবসেও উৎসবমুখর ছিল বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। মানুষের সমাগম হলেও বিক্রি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় লেখক-প্রকাশকরা। তবে মেলার প্রথম সপ্তাহেই এত ভালো বিক্রি, গেলো কয়েক বছরে হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, প্রতি বছরই মেলার প্রথম সপ্তাহে তেমন বই বিক্রি হয় না। অনেকে দেখে চলে যান, অনেকে পছন্দের বইয়ের তালিকা করে রাখেন। আবার অনেকে ছাড়ের অপেক্ষায় থাকেন। তবে এ বছর ভিন্নচিত্র দেখা যাচ্ছে। মানুষ আসছে যেমন বেশি, তুলনামূলক বিক্রিও ভালো।

জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আজিম উদ্দিন। তিন বছর তিনি এ প্রকাশনীর সঙ্গে কাজ করছেন। বইমেলার পুরোটা সময় থাকেন স্টলে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেলার প্রথম সপ্তাহেই এবার প্রচুর চাপ। কাজের চাপে এক মিনিটও দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি না। মানুষ স্টলে আসছেন, দেখছেন। বই কেনার আগ্রহও অনেক বেশি।’

উৎস প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম বলেন, ‘মেলা ভালো চলছে। বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। মানুষের আনাগোনা এবার আশা জাগাচ্ছে। অনেকে অনলাইনে দেখে নাম উল্লেখ করে বই চাইছেন। কেউ কেউ কিছুটা ডিসকাউন্ট চাচ্ছেন। দরদামে হলে বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে বইমেলায় এসেছেন ৬৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। বছর তিনেক আগে অবসরে গেছেন। প্রথম প্রকাশনীতে আকবর আলি খানের ‘পুরোনো দিনের কথা’ বইয়ের পাতা উল্টাতে দেখা গেলো তাকে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বহু বছর ধরে বইমেলায় আসি। অন্যবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসি। এবার এখনো সে আসেনি। আজকে বলছিলাম আসতে। একটু অসুস্থ তাই আসতে পারেনি। একাই এলাম। এ পর্যন্ত তিনটি বই কিনেছি। আরও কয়েকটা কিনবো।’

প্রথম সপ্তাহের হিসাবে বিক্রি খুবই ভালো বলে মনে করেন সময় প্রকাশনের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিক্রি এবার শুরু থেকেই খুব ভালো। স্টলের কর্মীরা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রথম সপ্তাহে এমন বিক্রি সাধারণত দেখা যায় না। অন্যদের (প্রকাশক) সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে, তাদেরও বেশ ভালো বিক্রি।’

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী উম্মে সালমা বলেন, ‘স্টল খোলার আগ থেকেই অনেকে আজ অপেক্ষা করছিলেন। খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় লেগেছে। সবসময় পাঠকদের উপস্থিতি দেখছি। আমার ধারণা—৬০ শতাংশ পাঠক বই কিনে নিয়েই ফিরছেন।’

প্রকাশক, বিক্রয়কর্মীদের মতো উচ্ছ্বসিত লেখকরাও। ‘আমার হুমায়ূন স্যার’ বইয়ের লেখক জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজ। বইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। মেলায় সময়ের স্টলে ব্যস্ত সময় কাটছে ডা. এজাজের। পাঠকদের নানা আবদার হাসিমুখে মেটাচ্ছেন তিনি।

ডা. এজাজ বলেন, ‘সময় পেলে সময় প্রকাশনের স্টলে এসে বসছি। অনেকে নানান আবদার করছেন। ছবি তুলছেন, অটোগ্রাফসহ বই কিনছেন। নিজেদের অনুভূতি জানাচ্ছেন। এটাকে আমি ভালোবাসা হিসেবে দেখছি। আমি মনে করি—তারা আমাকে নয়, হুমায়ূন স্যারকে ভালোবেসে বইটি কিনছে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’

spot_img

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img