মঙ্গলবার

১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
spot_img

‘প্রধানমন্ত্রী ঘর দিছে, এলা আর ভিজতে হবে না’

‘ছোট একটি ছাপড়া ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনো মতে বসবাস করেছি। কখনো স্বপ্নে কল্পনা করতে পারি নাই, যে একটি পাকাঘর করে সেখানে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকতে পারবো। এলা আর বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না। সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন হাসিনা দরদী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)।’ চোখের কোণে আনন্দের অশ্রু নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া মোছা. লাকি খাতুন নামের এক নারী।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে শুধু লাকি খাতুন নয়, এমন আনন্দ ও খুশিতে আত্মহারা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নির্মিত সেমিপাকা ঘর পেয়ে অসহায় ১৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিণা ১৩টি ঘর, বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল ও মাধাইনগর ৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলায় ১৯জন গৃহহীন ও ভূমিহীনকে বিনামূল্যে জমি ও রঙিন টিন দিয়ে আধাপাকা ঘর করে দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে তাদেরকে জমির উপহারের ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহারের ঘরে থাকছে দুটি থাকার কক্ষ, একটি রান্না ঘর, একটি করে উন্নত টয়লেট ও একটি বারান্দা। প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার টাকা করে।

দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিণা গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত মোছা. পালনী বেওয়া নামে (৬৫) বছরের বৃদ্ধা জানান, সারাজীবন অভাব-অনটনের সংসারে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। পাকাবাড়ি বানানোর চিন্তা কোনোদিন করেননি। কিন্ত শেখ হাসিনার সরকার ও ইউএনও সাহেবের জন্য বিনামূল্যে জমি ও ঘর পেয়েছি। শেষ বয়সে রঙিন টিনের আধাপাকা ঘরে থাকতে পারছি। আমি সব সময় শেখ হাসিনার জন্য আর তাড়াশের ইউএনও সাহেবের জন্য দোয়া করি।

মোছা. ফুলেরা বেগম বলেন, ‘খেয়ে না খেয়ে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করেছি। ইউএনও সাহেব আমাকে পাকাঘর করে দিয়েছে। আমি এখন খুব সুখে আছি। কারণ কখনো ভাবতে পারি নাই পাকাঘরে থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবো। আর প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যেন সুখে থাকেন, আল্লাহ তাদের হায়াত দান করেন। যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন এই দোয়া করে যাবো।’

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক বলেন, জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারি খরচে মাথা গোজার আশ্রয়স্থল গড়ে দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে তাড়াশ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মেজবাউল করিম স্যারের নির্দেশনায় আমার ইউনিয়নে প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা প্রণয়ন করে নিয়মমাফিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছেন তাদেরকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় ১৯টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ঘরগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহহীনদের একটা মানসম্মত ও টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য আমরা সবসময় তদারকি করছি।

spot_img

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img