দেড়শ টাকার দ্বন্দ্বে ৩৫ কিলোমিটার দূরে পরীক্ষার কেন্দ্র, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আরও পড়ুন

🕙 প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ । ৬:৪৪ পিএম

মাত্র দেড়শ টাকার দ্বন্দ্ব ও পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় মেটাতে না পারায় পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার কেন্দ্র বাতিল করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন সিদ্ধান্তে কেন্দ্রটি ৩৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্নাতক শেষ বর্ষের শতাধিক পরীক্ষার্থী।

আগামী ৩০ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সরকারি কলেজে ২০১২ সালে স্নাতক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সেখানেই পরীক্ষা হতো। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি ৩ কিলোমিটার দূরে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। এবার পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে হঠাৎ তা জেলা সদরে নেওয়া হলো।

অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্র ফি বাবদ বাউফল সরকারি কলেজ পরীক্ষার্থী প্রতি ৪৫০ টাকা আদায় করলেও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে (কালাইয়া কলেজ) দেওয়া হতো ৩০০ টাকা। বাকি ১৫০ টাকা নিয়ে দুই কলেজের দ্বন্দ্বে ব্যয়ের সংকুলান না হওয়ায় কালাইয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করে।

পরীক্ষার্থীদের দাবি, ৩৫ কিলোমিটার যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হবে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী জাবের মাহমুদ বলেন, ‘এই পথ যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা লাগে। দুপুর ১টার পরীক্ষায় অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। ফিরে আসতে রাত ১০টা বেজে যাবে, যা আমাদের জন্য মানসিক চাপের।’ নারী ও অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই দূরত্বে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব বলে জানান তারা।

কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, ‘ক্লাস বন্ধ রেখে পরীক্ষা পরিচালনা করি। এরপর নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। তাই আমরা আবেদন করেছি।’

বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, ‘৪৫০ টাকা আদায়ের বিষয়টি ঠিক। তবে বিধি অনুযায়ী ১৫০ টাকা বিভিন্ন খরচের জন্য রাখা হয়েছে। কালাইয়া কলেজ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছে তা আমরা জানতাম না। আগামী বছর বাউফলে কেন্দ্র ফেরানোর চেষ্টা করব।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ