Home Blog

ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৭১

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় মামলা হয়েছে ৪৯টি।

শনিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযানে রমনা বিভাগে ৫৩ জন, লালবাগে ২৯, ওয়ারীতে ৫৯, মতিঝিলে ৬৯, তেজগাঁওয়ে ৭৮, মিরপুরে ৭৮, গুলশানে ৪৩, উত্তরায় ৪৩ ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ১০ কেজি ১১০ গ্রাম গাঁজা, ১২ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬ ক্যান দেশীয় ‘হান্টার বিয়ার’, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, তিনটি চাকু, দুইটি চাপাতি, একটি হাসুয়া, কার্টার, ছুরি, সিএনজি, পাঁচটি মোবাইল, দুইটি টিভি, একটি মাইক্রোওভেন ও নগদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দুজন ভিকটিমকে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত: ইইডি’র ঢাকা জোনে বহাল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাবেক নেতা

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাবেক নেতা মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্বে। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নাম সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে সাভার থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো জোনে বদলি করা হয়। এরপর থেকেই তার এ পদায়ন ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর আগেও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন ‘প্রধান কার্যালয়’ ভবণ নির্মাণে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। উপরন্তু এ পদায়নকে কেন্দ্র করে মোটা অংঙ্কের অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের অনেক নেতাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও আলিফ এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।

২০২২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে বরাদ্দবিহীন বিল পরিশোধসহ নানা অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর কাফরুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্য ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির দরপত্র মূল্য ছিল ৪ কোটি ৪৩ হাজার ১০৫ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সংশ্লিষ্টতায় ষষ্ঠ তলার আরসিসি কাজ, ১০ ও ৫ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি, আস্তর, দরজা-জানালা, গ্রিলসহ বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, ভবনটির তখনও চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল এবং দ্বিতীয় তলার ইটের গাঁথুনির কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অর্থাৎ প্রায় এক বছর পরও প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার কাজ অসম্পন্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আলিফের ভূমিকা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েই আগাম বিল ছাড়ে সহায়তা করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ বলেন, এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সূত্র: দৈনিক বাংলা

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত দেশের পোশাক খাত

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শেষ হলেও বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানিসংকট কাটেনি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো চলছে ধুঁকে ধুঁকে। দেশের স্পিনিং, নিটিং ও ডাইং মিলগুলোতে প্রচুর গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল লাগে। অথচ বাংলাদেশ ৯৫ শতাংশ তেল-গ্যাস আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৬ জুন ঢাকার এক বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করেছে।

এ শিল্পে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশই নারী। তারা জারা ও এইচঅ্যান্ডএমের মতো পশ্চিমা ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করেন। দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ বা ২৫শতাংশ জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের চার-পঞ্চমাংশ এবং জিডিপির ১৩শতাংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে। পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তবে এই খাত আগে থেকেই চাপে ছিল। শিল্প বিশ্লেষক মেহেদী মাহবুব জানান, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। আন্দোলনের সময় অনেক কারখানা বন্ধ ছিল, পাঁচটি কারখানায় আগুন দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই পোশাক কারখানা রয়েছে। গত তিন বছরে চারশরও বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

গত মে মাসে ঢাকায় গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত। উৎপাদন সচল রাখতে কিছু মালিক ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করছেন। তবে শতভাগ দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল এই শিল্পে ‘জেনারেটর চালু করার ১০-১৫ মিনিট সময়ও বেশ ব্যয়বহুল’, বলছেন বাংলাদেশের এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভের আবিল বিন আমিন। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে উৎপাদন প্রায় ৩০% কমে গেছে।
উৎপাদন বিলম্ব, নৌপথে পরিবহন সংকট ও পশ্চিমা ক্রেতাদের কেনাকাটা কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। ঢাকার এক জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নাকিব জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার অর্ডার এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮শতাংশ কম।

তেলের চড়া দাম কাঁচামালের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিন্থেটিক ফাইবার, রং, ফিনিশিং কেমিক্যাল, প্লাস্টিকের বোতাম ও জিপারের পেছনেই পোশাক তৈরির ৬৫শতাংশ খরচ হয়। এগুলোর সবই পেট্রোকেমিক্যালজাত পণ্য। বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ পোশাক তৈরিতে পলিয়েস্টার ফাইবার ও সুতা ব্যবহার করা হয়, যা ন্যাফথা থেকে তৈরি। যুদ্ধ শুরুর পর এই ন্যাফথার দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এই শিল্পটি বেশ খণ্ডিত। বাংলাদেশে সুতা তৈরি থেকে পোশাক ফিনিশিং পর্যন্ত সব সুবিধা থাকা সমন্বিত টেক্সটাইল মিলের সংখ্যা কম, বেশির ভাগ কারখানাই উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে কাজ করে। নাকিব জানান, তার পরিবহন খরচ ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

মে মাসে সংকটগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার (৫ বিলিয়ন ডলার) প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর বড় অংশই বরাদ্দ রাখা হয়েছে পোশাক কারখানার জন্য। তবে এই ঋণের সুদ দিতে হবে প্রায় ৭শতাংশ, এটি সংকটে থাকা মালিকদের জন্য বেশ কঠিন।
করোনা মহামারির সময় খরচ বাড়লে বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশি পোশাকের বাড়তি দাম দিতে রাজি হয়নি। এবার জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি কারখানায় অন্তত ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো আবারও শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৭ জুন মাধবপুরের কোরটেক্স অ্যাপারেলসে কাজে গিয়ে কারখানার গেটে লে-অফ বা সাময়িক বন্ধের নোটিশ দেখেন সমলী খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য অন্য কাজ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে। নারী হিসেবে আমার সুযোগও সীমিত। হয়তো আমাকে গ্রামেই ফিরে যেতে হবে।’

বিয়ানীবাজারে বৃদ্ধাশ্রমের জায়গায় মাদ্রাসা নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিবিরোধী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের প্রস্তাবিত বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্পের জায়গায় এখন মাদ্রাসা গড়ার কাজ চলছে। জমির মালিকানা, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমিতে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সামনে ‘দারুল মোস্তফা (সা.) চরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামের সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

​স্থানীয়দের একাংশ জানান, কয়েক বছর আগে জমির মালিক হুমায়ুন কবির পারভেজ অসহায় মানুষের জন্য আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে তিনি বিদেশে চলে যাওয়ায় উদ্যোগটি থমকে যায়। দীর্ঘদিন জমিটি খালি পড়ে ছিল।

​প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় প্রবীণদের কোনো আশ্রয়স্থল না থাকায় বৃদ্ধাশ্রমের পরিকল্পনাটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

​বৃদ্ধাশ্রমের ভূমি দখল করে মাদ্রাসা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণ কমিটির সভাপতি তাজিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ইসলামি শিক্ষার প্রসার ও নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গাটি অব্যবহৃত ছিল। এলাকাবাসীর আগ্রহে কাজ শুরু করেছি। প্রতিষ্ঠানটি সমাজ ও ইসলামের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’

​জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। নির্মাণকাজে এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমির প্রকৃত মালিক হুমায়ুন কবির পারভেজ। তাঁর সম্মতি ছাড়া ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা স্থাপনা নির্মাণ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জমি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে মালিকপক্ষের মতামত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল।

​হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

​সচেতন মহলের মতে, বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকৃত মালিকানা, জমির নির্ধারিত ব্যবহার ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। জমির কাগজপত্র ও প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।

ভারতে রাজনৈতিক আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

অনলাইনে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলনটি ধীরে ধীরে অনলাইন থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ছে। জেন–জি প্রজন্মের দাবিদাওয়া নিয়ে কিছু তরুণ তেলাপোকার পোশাক তরুণ তেলাপোকার পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

ভারতে সিজেপির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছিল বলে গত বৃহস্পতিবার জানান এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তবে এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক্সে একটি নতুন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এটি আবার ফিরে আসে। দিপকে লিখেছেন, ‘যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে।’ স্থগিত হওয়ার আগে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টে ২ লাখ অনুসারী ছিল। অভিজিৎ অভিযোগ করেন, দলের ইনস্টাগ্রাম এবং তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার দুই ঘণ্টা পর দিপকে জানান, তিনি এক্সে ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট চালু করেছেন। সিজেপি তাদের সমালোচকদের উপহাস করে দুটি নতুন পোস্ট শেয়ার করেছে। একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘আপনারা ভেবেছিলেন, আমাদের হাত থেকে রেহাই পাবেন? হাঁ হাঁ,’ অন্য একটি পোস্টে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম এবং সিজেপির মূল অ্যাকাউন্টের অনুসারী সংখ্যার তুলনামূলক স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্যাপশন দেওয়া হয় ‘যে কারণে তারা আমাদের ব্লক করেছে।’

সিজেপি ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৪০ লাখ অনুসারীর মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা বিজেপি, কংগ্রেসসহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনুসারীসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ৮৮ লাখ এবং কংগ্রেসের ১ কোটি ৩৩ লাখ অনুসারী রয়েছে।

গত সপ্তাহে একটি আদালতের শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের করা কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি নামটির উৎপত্তি হয়। কিছু বেকার তরুণ এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ইঙ্গিত করে প্রধান বিচারপতি তাঁদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যা অনলাইনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধান বিচারপতি পরে বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

সিজেপি জানায়, তারা ভারতের সংবিধানের ওপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং সর্বদা এর মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করবে। দলটির পাঁচ দফা ইশতেহারও রয়েছে। এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে, সিজেপি ক্ষমতায় এলে অবসরকালীন পুরস্কার হিসেবে কোনো প্রধান বিচারপতিকে রাজ্যসভার আসন দেওয়া হবে না। অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংসদে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ, দলত্যাগের ক্ষেত্রে এমপি ও এমএলএদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ করা, ‘বৈধ ভোট মুছে ফেলার’ ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) ইউএপিএ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা এবং আম্বানি ও আদানির মালিকানাধীন সব মিডিয়া হাউসের লাইসেন্স বাতিল করা।

কে এই দিপকে
৩০ বছর বয়সী দিপকে গত ১৬ মে এই অনলাইন প্রচারণা শুরু করেন। দিপকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনস (জনসংযোগ) বিষয়ে তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দিপকের এই দল বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, শিল্পী এবং লাখ লাখ সাধারণ ব্যবহারকারীর সমর্থন লাভ করেছে। দিপকে পুনেতে সাংবাদিকতায় স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দলটির বিজয়ী হওয়া ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি মিমভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারণায় কাজ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ককরোচ জনতা পার্টি কী
ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইটে নিজেদের এমন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাদের কথা রাষ্ট্রব্যবস্থা গুনতে ভুলে গেছে। এটি নিজেকে অলস এবং বেকারদের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে। সিজেপির ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী, দলটিতে যোগদানের জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই বেকার, অলস এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে সক্রিয় হতে হবে এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকতে হবে।

সংগঠনটি মিম ব্যবহার করে তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর বেশির ভাগ কনটেন্ট গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন, ইশতেহার এবং সনদের আদলে করা দাবিনামার মাধ্যমে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষার মতো যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে তুলে ধরা হয়।

প্রভাব
সিজেপির সঙ্গে কোনো বাস্তব রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন অভিজিৎ দীপকে। তবে তিনি বলেন, এর উত্থান দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে দেখা একটি বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের বড় ভূমিকা ছিল।

দিপকে আরও বলেন, ‘তরুণেরা সত্যিই হতাশ। সরকার তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।’ ভারতে এই চাপ বিশেষভাবে তীব্র। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি তরুণ। কিন্তু তাঁদের অনেকেই চাকরিসংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্বের মুখোমুখি।

অনেক তরুণ ভোটার মোদির ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে নিয়েও ক্ষুব্ধ। ধর্মীয় বিভাজন বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, অর্থনৈতিক চাপ—এসব বিষয় তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।

সিজেপির ইশতেহারেও ব্যঙ্গের মাধ্যমে ভারতের রাজনীতির নানা বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে—ভোট কারচুপির অভিযোগ, করপোরেট গণমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সরকারি পদে নিয়োগের মতো বিষয়।

সমালোচকদের একটি অংশ, যাঁদের অনেকেই মোদির সমর্থক, তাঁরা এই উদ্যোগকে বিরোধীপন্থী রাজনৈতিক চটকদার অনলাইন কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অতীতে আপের সঙ্গে অভিজিতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথাও তাঁরা উল্লেখ করছেন।

সমালোচকদের দাবি, এই অনলাইন জনপ্রিয়তা দ্রুতই মিলিয়ে যাবে। কারণ, এটি কোনো তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন নয়, বরং কেবল একটি ডিজিটাল প্রচারণা। তবে অভিজিত দিপকের মতে, অনলাইনে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন ভারতে এসে গেছে। এটি রাজনৈতিক আলোচনার ধরন বদলে দেবে। এটি অনলাইনে চলবে, প্রয়োজন হলে মাঠেও গড়াবে।

ভারতে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের সিনেমা

ভারতের দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা চলচ্চিত্রের’ পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘মানুষের বাগান’।

উৎসবের সমাপনী দিন এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সিনেমার পরিচালক ও পুরো টিমের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার প্রীতি রহমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পক্ষে প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সিনেমার পরিচালক নুরুল আলম আতিক বলেন, যে কোনো স্বীকৃতি নিসঃন্দেহে আনন্দের। বেশ আগে কাজটি করা। সবাই আমাকে দারুণ সহায়তা করছিলেন। সিনেমাটি শিগগিরই দেশের দর্শকরা দেখতে পারবেন।

একগুচ্ছ অভিনয়শিল্পী নিয়ে আতিক সিনেমাটি নির্মাণ ও সম্পাদনা শেষ করেন ২০১৯ সালের শেষের দিকে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসূন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ, জয়রাজসহ অনেকে।

‘মানুষের বাগান’ সিনেমায় মানুষের সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের জটিলতার দিক তুলে ধরেছেন। সিনেমার চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাঁচটি গল্প নিজস্ব দর্শনে তৈরি করেছেন নির্মাতা। সিনেমায় ‘মানুষের বাগান’ শিরোনামের একটি গান রয়েছে। গানটি করেছে চিরকুট ব্যান্ড। গানটির গীতিকার নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি চিরকুটের ‘যাদুর শহর’ গানটির কথাও লিখেছিলেন।

দুই বছর আগে আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল, সেই সিনেমাটিও নির্মাণের আট বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেন তিনি। এর আগে, আতিক নির্মাণ করেছেন ‘লাল মোরগের জুটি’, ‘ডুব সাঁতার’, ‘কিত্তনখোলা’ সহ বেশ কিছু সিনেমা।

অপূর্ব-নীহার ‘মায়াপাখি’

ঈদের নাটকে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। আর তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী নাজনীন নীহার জুটি এরই মধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে। মনদুয়ারী ও মেঘবালিকার পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে এই দুজনকে। এবার তারা আসছেন মায়াপাখি নিয়ে।

মায়াপাখি নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এই নির্মাতার আগের মনদুয়ারী ও মেঘবালিকা দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

জাকারিয়া সৌখিন জানিয়েছেন, এবারের গল্প দর্শকের ধারণারও বাইরে।

গল্পে দেখা যাবে, মায়া খুব সাধারণ একটি মেয়ে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নায়িকাদের মতো বেণী করা চুল, কপালে টিপ, চোখে কাজল—সহজ-সরল সেই মেয়েটির প্রেমে পড়ে সাদাত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের মোড় জটিল হতে শুরু করে।

সৌখিন বলেন, যারা আমার নাটক নিয়মিত দেখেন, তাদের জন্য এবার ভিন্ন স্বাদের কিছু আসছে।

নাটকটি নিয়ে আশাবাদী জিয়াউল ফারুক অপূর্বও। তিনি বলেন, মায়াপাখি এমন এক গল্প, যা দেখে সবার মায়া লাগবে। গল্পের শেষে এসে প্রতিটি দর্শকের হৃদয় মোচড় দিয়ে উঠবে। যে ঘোর তৈরি হবে, তা থেকে অনেকদিন বের হতে পারবেন না।

অভিনেত্রী নাজনীন নীহা বলেন, মায়াপাখি আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি প্রজেক্ট ছিল। এখানে দর্শক আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন। নাটকটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। নাটকটি ঈদুল আজহায় সিএমভি থেকে মুক্তি পাবে।

মাসুদ রানা সিনেমার প্রথম পোস্টার

বাঙালির হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা চিরচেনা ‘মাসুদ রানা’ ফিরছে পর্দায়। সেবা প্রকাশনীর প্রচ্ছদের আদলে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার। সৈকত নাসির পরিচালিত এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তার সঙ্গে আছেন পূজা চেরি ও সৈয়দা তিথি অমনি।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া জানিয়েছে, আগামী ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘মাসুদ রানা’।

কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট এই চরিত্রকে নিয়ে ছয় বছর আগে দুটি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। অবশেষে আলোর মুখ দেখছে প্রকল্পটি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট মাসুদ রানা চরিত্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে ‘ধ্বংস পাহাড়’ বইয়ের মাধ্যমে। সেবা প্রকাশনী থেকে এই সিরিজের চার শতাধিক গুপ্তচরবৃত্তীয় কাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বইটি ছিল কাজী আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল।

সবচেয়ে ভারী লাশ

শফিকের চোখে জল নেই। পাথরের মতো মুখ। মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। শান্তর শরীরে লাল দানা। হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বড় হাসপাতালেও শেষ রক্ষা হলো না।

হাসপাতালের গেটে শান্তর মা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। শফিকের জামা টেনে ধরে বললেন, ‘ও শান্তর বাপ, ওরে একটু ডাক দাও! ও তো এমন করে ঘুমানোর কথা না!’

শফিক শুধু আকাশের দিকে তাকালেন। ভাঙা গলায় বললেন, ‘সব শেষ। ও আর ডাকবে না। চলো, ওরে বাড়ি নিয়ে যাই।’

শফিক ছেলেকে নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছেন। কোনো গাড়ি থামল না। এক পথচারী থমকে দাঁড়ালেন। নিচু স্বরে বললেন, ‘ভাই, লাশ নিয়ে রোদে হাঁটছেন কেন? গাড়ি ঠিক করেন।’

শফিক ম্লান হেসে বললেন, ‘টাকা নেই ভাই। ছেলের পেছনে সব গেছে। ও এখন বাবার কোলেই ঘুমাক।’

পথচারী দীর্ঘশ্বাস ফেলে সরে গেলেন। শফিক ছেলের কপালে হাত রাখলেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘আর একটু সহ্য কর বাপ, এই তো বাড়ি চলে এসেছি।’

পেছন থেকে মা আবার আর্তনাদ করলেন, ‘ও শান্তর বাপ, ওর হাতটা কেমন ঝুলে আছে! ওরে শক্ত করে ধরো। ওর কষ্ট হচ্ছে!’

শফিক ছেলেকে আরও জাপটে ধরলেন। বললেন, ‘ওর আর কষ্ট নেই। সব কষ্ট এখন আমাদের।’

রাস্তা পার হয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। রোদ কমে আসছে। পেছনে পড়ে রইল হাসপাতাল। সামনে শুধু ছেলেকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। কোনো পুলিশ বা কর্মকর্তা এসে তাঁদের থামাল না। কেউ জানতে চাইল না, ‘কী হয়েছে?’

শফিক ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলেন। এক বাবা তাঁর সন্তানের মরদেহ নিয়ে হাঁটছেন। কেউ ছবি তুলল, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কিন্তু শফিক হাহাকার শোনার কেউ ছিল না।

শহরের ভিড়ে আবেগ চাপা পড়ে। এক বাবার নুয়ে পড়া শরীর বলে দিচ্ছিল, সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী আর কিছু নেই। শান্ত চলে গেছে। শফিক এখন এক জ্যান্ত লাশ। ঢাকার রাস্তা সাক্ষী হয়ে রইল এক করুণ ইতিহাসের।

ট্রাম্প: ইরানের নতুন জিম্মি

শুরুটা ভালো মনে হলেও শেষটা নাটকীয়। ও. হেনরির ১৯০৭ সালের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য র্যানসম অফ রেড চিফ’ ঠিক এই সুরেই শুরু হয়েছিল। গল্পটি মূলত এক অবাধ্য, ধূর্ত ও ভয়ংকর সত্তাকে কবজায় রাখার বিপদ নিয়ে লেখা। সেখানে দেখা যায়, দখলকারী নিজেই একসময় বন্দিতে পরিণত হয়। দুই ছিঁচকে চোর সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় আলাবামার এক ধনী কৃষকের ১০ বছরের ছেলেকে অপহরণ করে। তাদের অনুমান ভুল ছিল। লাল চুল ও তিলযুক্ত ছেলেটি মোটেও সহজ পাত্র ছিল না। অপহরণের মুহূর্তে সে বিড়ালকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছিল। অপহরণকারীদের দিকেও সে ইট ছুড়ে মারে।

নিজেকে ‘রেড চিফ’ বা ‘সমতলের আতঙ্ক’ পরিচয় দেওয়া এই বালক অপহরণকারীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। সে অপহরণকারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আনন্দ পেত। একপর্যায়ে সে আর নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে চায় না। শেষমেশ অপহরণকারীরা দুই হাজার ডলার মুক্তিপণের আশা ছেড়ে দেয়। উল্টো ওই ‘অমানুষ’ বালককে ফিরিয়ে নিতে তার বাবাকে ২৫০ ডলার দিতে রাজি হয় তারা। তারপর তারা প্রাণভয়ে দৌড়ে পালায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিস্থিতি এখন অনেকটা সেই অপহরণকারীদের মতো। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-আশাবাদী কথায় প্রলুব্ধ হয়ে তিনি ইরানের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। প্রাথমিক দৃষ্টিতে তা ভালো সিদ্ধান্ত মনে হলেও এখন তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। দুই মাস ধরে ইরানের অনড় নেতৃত্ব ও তাদের মিত্রদের মোকাবিলা করতে গিয়ে ট্রাম্প এখন দিশেহারা। তিনি বারবার দাবি করছেন মোল্লাদের তিনি পরাজিত করেছেন। তাদের সামরিক শক্তি ‘নিশ্চিহ্ন’ করার ঘোষণা দিলেও ইরান নতি স্বীকার করছে না।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের চেয়ে নমনীয় ও আলোচনার জন্য সহজ হবে। বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কট্টরপন্থী ও অভিজ্ঞ জেনারেলদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সরকার আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক। ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করেনি। পারমাণবিক আলোচনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকার দাবি করলেও তা কার্যত অবরুদ্ধ। এখন ইরানকে রুখতে গিয়ে ট্রাম্প নিজেই এক ধরনের আন্তর্জাতিক অবরোধের মুখে পড়েছেন।


সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা রিচার্ড হাস তার ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ সংবাদপত্রে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের ধারণার চেয়ে ইরান অনেক বেশি সহনশীল ও কৌশলী। প্রশাসনের প্রায় সব অনুমানই এখন ভুল প্রমাণিত।’ হাসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।


ইরান এখন ট্রাম্পকে নিয়ে বিদ্রুপ করছে। তারা ট্রাম্পের নিজের অস্ত্র অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই তাকে নাজেহাল করছে। ইরানিরা তাকে ‘এল.ও.এস.ই.আর’ ও নেতানিয়াহুর হাতের পুতুল হিসেবে ব্যঙ্গ করছে। একটি ভাইরাল হওয়া ইরানি র‍্যাপ গানে বলা হয়েছে, ‘এটি তোমার না দেখা এক ফাঁদ। তোমার দর্পের সমাধিতে স্বাগতম।’ ইরানের এই ‘মিম’ যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিয়ে ‘ডেইলি শো’-এর প্রতিনিধি রনি চিয়েং প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি ট্রাম্প সাইবার বুলিং বা অনলাইনে হয়রানি করতেই ব্যর্থ হন, তবে তাকে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত করার সার্থকতা কোথায়?’

হরমুজ প্রণালীতে ইরান শক্তি প্রদর্শন করায় ট্রাম্পকে এখন সমঝোতার টেবিলে বসতে হবে। তিনি এখন এমন এক ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে আটকে গেছেন যেখানে একপাশে রয়েছে কট্টর রক্ষণশীল ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। অথচ বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে এই সরু জলপথ ব্যবহার করা ছাড়া গতি নেই। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নাক গলানোর সাফল্যের পর ট্রাম্প যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন, তা এখন ম্লান হয়ে গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ট্রাম্প মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তার সহকারীদের ওপর চিৎকার করেন। ট্রাম্পের আশঙ্কা, তার অবস্থা যেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মতো না হয়। কার্টারের সময় জিম্মি উদ্ধার করতে গিয়ে আটটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই স্মৃতি ট্রাম্পকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

১৯৮১ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জন আমেরিকান জিম্মি হওয়ার ঘটনাটি আমি সাংবাদিক হিসেবে কাছ থেকে দেখেছি। জিম্মিদের পরিবারের কষ্ট ও তাদের ফিরে আসা প্রত্যক্ষ করেছি। ইরানিরা সেই সময় জিম্মিদের দরকষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে কার্টারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিল। ট্রাম্পও এখন একই ধরনের ‘জুজুৎসু’ কৌশলের শিকার। ট্রাম্প ইস্টার উৎসবের সময় ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরান মোটেও আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো দেশ নয়। হরমুজ প্রণালীতে তারাই আসল নিয়ন্ত্রক।

ট্রাম্প তার আগের মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইকে ‘রক্ত ও বালির খেলা’ বলে অবজ্ঞা করতেন। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন নিজেই সেই চোরাবালিতে পা দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘বিরাট ভুল’ বলেছিলেন। এখন তিনি নেতানিয়াহুর দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে সেই ভুলই করছেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ যুদ্ধের সপক্ষে কোনো রকমে একটি অজুহাত খাড়া করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প কংগ্রেস ও মিত্রদের তোয়াক্কা না করে নেতানিয়াহুর ইশারায় পা বাড়িয়েছেন। এমনকি তার কট্টর সমর্থকরাও এতে নাখোশ।

ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান তাদের ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, জেনারেল ড্যান কেইনের সতর্কবার্তা ট্রাম্প কানে তোলেননি। কেইন বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। টাইমস-এর রিপোর্ট বলছে, চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তৈরি করা অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের অর্ধেকই ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে।

ট্রাম্পের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা খুবই সীমিত। তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমার হাতে সময় আছে, কিন্তু ইরানের নেই।’ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্প এখন নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার লড়াই করছেন। ব্যবসায়ী জীবনে তিনি ‘সত্যনিষ্ঠ অতিরঞ্জন’ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। এখন তিনি রাজনৈতিক সংকট কাটাতে অলীক কল্পনা ও অতিরঞ্জিত আশার আশ্রয় নিচ্ছেন। তার কর্মীরাও আসন্ন নির্বাচনে তেলের দাম ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় তটস্থ।

নিশ্চয়ই এখনকার পরিস্থিতি ট্রাম্পকে স্বস্তি দিচ্ছে না। তাই তিনি বারবার তার পরিচিত বিলাসিতার বৃত্তে বা বলরুমে ফিরে যেতে চান। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ বছর তিনি অসংখ্যবার তার সেই বলরুমের কথা প্রচার করেছেন। এটি সম্ভবত তার মানসিক পলায়নপরতা। ইরানের সঙ্গে যে জটিল জট তিনি পাকিয়েছেন, তা থেকে বের হওয়ার সহজ পথ তার জানা নেই।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক বদ্ধ গলিতে দাঁড়িয়ে। তিনি মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক চুক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন। ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে আসার যে দম্ভ তিনি দেখিয়েছিলেন, তা বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। আধুনিক সমরবিদদের মতে, শক্তি প্রদর্শন ও শক্তি প্রয়োগের মধ্যে যে সূক্ষ্ম ফারাক থাকে, ট্রাম্প তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইরান এই সুযোগটিই গ্রহণ করেছে। তারা জানে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক, আবার সমঝোতায় ফিরতেও তার ইগোতে লাগছে। এই দোলাচলের সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে।

নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থকে বিসর্জন দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রভাব দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে এই ছায়াযুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করছে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এর ফলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ছেন।

পরিশেষে, ও. হেনরির সেই গল্পের চোরদের মতোই ট্রাম্প এখন মুক্তি খুঁজছেন। তবে এই মুক্তির পথ সহজ নয়। ইরান তাদের শর্ত না মানলে পিছু হটবে না। ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কষ্টে থাকলেও তাদের রাষ্ট্রযন্ত্র দমে যায়নি। বরং তারা বিকল্প মিত্র খুঁজে নিয়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পারস্য উপসাগরের উত্তাল জলরাশির ওপর ঝুলছে। তিনি যদি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তবে ইতিহাসের পাতায় তাকে আরেকজন ব্যর্থ রণকৌশলী হিসেবেই গণ্য করা হবে। রেড চিফের মতো ইরানও এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এক দুর্ধর্ষ সত্তা।

*দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ এম আর লিটন।