সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিবিরোধী ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের প্রস্তাবিত বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্পের জায়গায় এখন মাদ্রাসা গড়ার কাজ চলছে। জমির মালিকানা, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমিতে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সামনে ‘দারুল মোস্তফা (সা.) চরিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামের সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের একাংশ জানান, কয়েক বছর আগে জমির মালিক হুমায়ুন কবির পারভেজ অসহায় মানুষের জন্য আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে তিনি বিদেশে চলে যাওয়ায় উদ্যোগটি থমকে যায়। দীর্ঘদিন জমিটি খালি পড়ে ছিল।
প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় প্রবীণদের কোনো আশ্রয়স্থল না থাকায় বৃদ্ধাশ্রমের পরিকল্পনাটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।
বৃদ্ধাশ্রমের ভূমি দখল করে মাদ্রাসা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণ কমিটির সভাপতি তাজিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ইসলামি শিক্ষার প্রসার ও নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জায়গাটি অব্যবহৃত ছিল। এলাকাবাসীর আগ্রহে কাজ শুরু করেছি। প্রতিষ্ঠানটি সমাজ ও ইসলামের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’
জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। নির্মাণকাজে এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমির প্রকৃত মালিক হুমায়ুন কবির পারভেজ। তাঁর সম্মতি ছাড়া ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা স্থাপনা নির্মাণ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জমি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে মালিকপক্ষের মতামত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল।
হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
সচেতন মহলের মতে, বিভ্রান্তি দূর করতে প্রকৃত মালিকানা, জমির নির্ধারিত ব্যবহার ও নির্মাণকাজের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। জমির কাগজপত্র ও প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।

